অবাঞ্চিত

হকসাহেব গলি থেকে ফ্রিপোর্ট আসতে এক কিলোমিটার হতে পারে,
এই অল্পটুকুন পথ প্রতিদিন পাড়ি দিই টাকার সন্ধানে।
কিন্তু টাকার খুঁজে আসতে গিয়ে অনেক বৈচিত্র্যময় ঘটনা চোখে পড়ে।
এই শহরটায় টাকার সন্ধান একেকজন একেক ভাবে করে থাকেন।
তেমনি
আজ,
অফিস শেষে বাসায় ফিরছি,বন্দরটিলা পৌছুতেই দেখলাম লাফিয়ে লাফিয়ে কিছু মহিলা আমাদের গাড়িতে উঠেছে তাদের পোশাক দেখে বুঝা যাচ্ছিলো ।তারা সাপের খেলা দেখিয়ে বেড়ান,
মাথায় ঝুড়ি, কোমরে কাপড়ের থলে।
ঝুড়িতে সাপ আছে সম্ভবত।

কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সাপের ভয় দেখিয়ে সবার কাছে টাকা চাইছে।
এতে কেউ দিচ্ছে কেউবা না'দিয়ে ফুঁসছে।
আবার কিছু লোক চেঁচিয়ে বলছে "হবেনা"
টাকা কি তোমরা কামাই কইরা দাও..... *....*.....
বেদেনীদের এই স্বভাবটা আগে কখনো চখে পড়েনি।
এই কাজে যাদের দেখতাম তারা মূলত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।
যাদেরকে সমাজ হিজড়া নামে ভূষিত করেছে।
এ-শ্রেণীকে গাল-মন্দ দেওয়ার লোকের অভাব নেই।
যে যোগ্যতা রাখে সে-তো বলেই যে রাখেনা সে আরো বেশীই বলে।
কেই নিজেকে দিয়ে মূল্যায়ন করেনা।
Jean Shoshi কিছুদিন আগে তৃতীয় লিঙ্গের একটি ভিড়িও শেয়ার করেছিলো
যেখানে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া আংশিক বর্ণনা ছিল।
এমন না জানা অনেক ঘটনাই ঘটে যাচ্ছে, যা-নিয়ে সমাজ তথা রাষ্ট্র কখনো ভাবেনি।ভাবতে চেষ্টাও করেনি।
সবার একটাই কথা কেন এসব করছে.....
বছর দু-এক হলো ইভটিজারদের দৌরাত্ম্যে ভাটা ফেলতে আইন করা হয়েছে।
এ সমাজে যাতে আর কোন দিন মা-বোনদের ইভটিজিং না করা হয়।
কিন্তু বছরের পর বছর, সমাজ তথা রাষ্ট্র নিজেই তৃতীয় লিঙ্গকে অবহেলায় ফেলে ইভটিজিং করতে সুযোগ করে দিচ্ছে, আর এর ফলশ্রুতিতে ইনসাইডে কি ঘটছে আমরা জানতে আগ্রহী নয়।
বেদেনীদের জীবনী নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখেছিলাম,
যেখানে হাই লাইট করা হয়েছিল মৌলিক পাঁচ চাহিদা।
সেখানে দেখতে পেলাম শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের যে অবস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, আমরা নিজেদের আধুনিক ভাবাটাই মুশকিল।
কারণ আমরা থাকতে তারা কেন পিছিয়ে!
সমাজ তথা রাষ্ট্র এই দু শ্রেণীকে কোথায় দাঁড় করে রেখেছে বুঝতে পারছিনা।
ভোটাধিকার ও আইনি সহায়তার স্বীকৃতি কি আদৌ পাবে!
না-কি তাদেরকে আরো বিচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করবে!

Comments

Popular posts from this blog

ও ভাই আরা চাটগাইয়া নওজোয়ান (চট্টগ্রামের জনপ্রিয় গান)

২৪ এর গণঅভ্যুত্থান এর স্লোগান সমূহ

মন মাঝি তোর সাধের তরী বাইতে জানো না